বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাস্টার্স: ২০২৭-২৮ সেশনের মাসভিত্তিক পরিকল্পনা
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাস্টার্সের আবেদনের বাস্তব সময়সূচি: কখন কোর্স বাছবেন, ইংরেজি পরীক্ষা দেবেন, স্কলারশিপে আবেদন করবেন আর ভিসা শুরু করবেন, সঙ্গে ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।

২০২৭ সালের শরতে বিদেশে মাস্টার্স শুরু করতে চাইলে কাজ শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। এই পরিকল্পনা একটি সাধারণ সময়সূচি, কোনো প্রতিশ্রুতি নয়: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের নিজস্ব তারিখ ও নিয়ম আছে, তাই নিচের মাসগুলোকে দিকনির্দেশ ধরে প্রতিটি অফিসিয়াল পেজ দেখে নিন। সর্বশেষ যাচাই: ২২ অক্টোবর ২০২৬।
মাসভিত্তিক পরিকল্পনা
| কখন | কী করবেন |
|---|---|
| এখন থেকে নভেম্বর ২০২৬ | ৫ থেকে ৮টি কোর্স বাছুন। প্রতিটির আবেদনের শেষ তারিখ, ভাষার শর্ত, ফি আর ফান্ডিং লিখে রাখুন। ইংরেজি পরীক্ষার তারিখ নিন। |
| নভেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭ | স্টেটমেন্ট অব পারপাস লিখুন, রেফারেন্সদাতাদের বলুন, ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ তুলুন। ইরাসমাস মুন্ডাসের বেশির ভাগ জয়েন্ট মাস্টার্সে আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে। |
| জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৭ | বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন জমা দিন। এই সময়ের স্কলারশিপে আবেদন করুন: জয়েন্ট জাপান/ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সময় ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ বলা হয়েছে (অফিসিয়াল সাইটে নিশ্চিত করুন)। অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৭-এর শুরুতে আবার খোলার কথা। |
| মার্চ থেকে জুন ২০২৭ | ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিন। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৭/২৮ চিভনিং রাউন্ডে ইন্টারভিউ মার্চ-এপ্রিলে, ফল জুনের মাঝামাঝি থেকে; পরের চক্রগুলোও কাছাকাছি হতে পারে। |
| জুন থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৭ | অফার গ্রহণ করুন, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিন, ভিসা শুরু করুন। সময় হাতে রাখুন, প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। |
কোথায় আবেদন করবেন
- কোর্সের আগে ফান্ডিং দেখুন। আপনি যোগ্য এমন স্কলারশিপসহ কোর্স, খরচ জোগাতে পারবেন না এমন নামকরা কোর্সের চেয়ে প্রায়ই ভালো। কোন তারিখ পার হয়ে গেছে তা আমাদের স্কলারশিপের অবস্থা পেজে আছে।
- দেশটির ভিসার পরিস্থিতি দেখুন। ২০২৬-এ নিয়ম বদলেছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে নিয়েছে এবং ইংরেজি ও সঞ্চয়ের শর্ত বাড়িয়েছে বলে খবর আছে। পড়ুন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় কী বদলেছে।
- শুধু র্যাঙ্কিং নয়, প্রোগ্রামটি দেখুন। পড়ানোর ধরন, গবেষণার সঙ্গে মিল আর পাস করার পর চাকরির বাজার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেশির ভাগ আবেদনে যে কাগজ লাগে
১. ট্রান্সক্রিপ্ট ও ডিগ্রির সনদ, প্রায়ই প্রত্যয়িত অনুবাদসহ। ২. পাসপোর্ট ও সাম্প্রতিক ছবি। ৩. কোর্সে চাইলে ইংরেজি পরীক্ষার ফল। ৪. কোর্সের জন্য নির্দিষ্ট স্টেটমেন্ট অব পারপাস। ৫. শিক্ষক বা ম্যানেজারের দুই-তিনটি রেফারেন্স। ৬. সিভি, আর স্কলারশিপে লাগলে কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ। ৭. ভিসার জন্য আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ।
যে ভুল এড়াবেন
- সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাধারণ স্টেটমেন্ট পাঠানো।
- সময় বাংলাদেশের ধরে নিয়ে শেষ তারিখ মিস করা।
- "নিশ্চিত" স্কলারশিপ বা ভিসার জন্য এজেন্টকে টাকা দেওয়া। কেউ এর কোনোটার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
- ভিসা শেষ মাসের জন্য ফেলে রাখা।
আগে থেকে বিদেশে আছেন বা কাজ খুঁজছেন? দেখুন বিদেশে চাকরি ও ওয়ার্ক ভিসা।
সূত্র
- দ্য ডেইলি স্টার: চিভনিং ২০২৭-২৮ গাইড
- ইরাসমাস মুন্ডাস ক্যাটালগ (EACEA)
- অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ
হালনাগাদ
- ২২ অক্টোবর ২০২৬: প্রথম প্রকাশ।
প্রচ্ছদ ছবি: GoginkLobabi, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons থেকে।


