জার্মানির ব্লকড অ্যাকাউন্ট ২০২৬: স্টুডেন্ট ভিসার €১১,৯০৪ শর্ত ব্যাখ্যা

বেশির ভাগ ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীকে দেখাতে হয় যে তাঁরা জার্মানিতে এক বছরের খরচ চালাতে পারবেন, সাধারণত ব্লকড অ্যাকাউন্টে। ২০২৬ সালের অঙ্ক কত, মাসিক ছাড় কীভাবে চলে, দূতাবাস আর কী মানতে পারে, আর বাংলাদেশি আবেদনকারী কী যাচাই করবেন।

বার্লিনে হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবন, উঠানের পেছনে লম্বা হালকা রঙের ভবন

সংক্ষেপে উত্তর: ২০২৬ সালে জার্মান স্টুডেন্ট ভিসার জন্য বেশির ভাগ গাইড আর্থিক প্রমাণের অঙ্ক দিচ্ছে ১২ মাসের জন্য €১১,৯০৪, মাসে €৯৯২ ছাড়ের হিসাবে, যা সাধারণত ব্লকড অ্যাকাউন্টে (শেরকোন্টো) রাখা হয়। এই গাইডগুলো ব্যাংক ও কনসালটেন্সির, সরকারি পেজ নয়, তাই টাকা পাঠানোর আগে অঙ্কটি জার্মান দূতাবাসে নিশ্চিত করুন। সর্বশেষ যাচাই: ২২ অক্টোবর ২০২৬।

ব্লকড অ্যাকাউন্ট কী

ভ্রমণের আগে আপনি একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে পুরো বছরের অঙ্ক জমা দেন। ব্যাংক সেটি "ব্লক" করে রাখে আর জার্মানিতে পৌঁছানোর পর আপনার সাধারণ অ্যাকাউন্টে মাসের অংশটুকুই ছাড়ে। উদ্দেশ্য, ভিসা অফিসকে দেখানো যে পড়ার সময় আপনি নিজের খরচ চালাতে পারবেন।

অঙ্ক, আর কেন তা বদলায়

  • ১২ মাসের জন্য €১১,৯০৪, অর্থাৎ মাসে €৯৯২, ২০২৬-এর বেশির ভাগ গাইডের দেওয়া অঙ্ক। একটি সূত্র বলছে অঙ্কটি জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস ২০২৫/২৬-এর জন্য ঠিক করেছে।
  • আরেকটি সূত্র একে জার্মান শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ যে শিক্ষা সহায়তা (বাফগ) পান তার সঙ্গে যুক্ত করে, যার মানে সেটা বদলালে অঙ্কও বদলাবে। পুরোনো পেজে এখনো আগের অঙ্ক €১১,২০৮ দেখা যায়।
  • আবেদনকারীরা সাধারণত ১২ মাসের অঙ্ক দেখান, কোর্স দীর্ঘ হলেও। একটি সূত্র প্রস্তুতিমূলক কোর্সের জন্য ২৪ মাসে €২৩,৮০৮ দিয়েছে।
  • প্রোভাইডাররা প্রায়ই তাদের ফি মেটাতে ব্লকড অঙ্কের চেয়ে একটু বেশি পাঠাতে বলে। একটি গাইডের অনুমান, এক প্রোভাইডারের জন্য প্রায় €১২,১৩১ আর আরেকটির জন্য €১২,১৮১.৮০, তাই প্রতিটি প্রোভাইডারের বর্তমান শর্ত পড়ুন।

টাকা দেখানোর অন্য উপায়

একটি গাইড বলছে, দূতাবাস অন্য প্রমাণও মানতে পারে, যেমন স্কলারশিপ বা জার্মানিতে থাকা কোনো ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা পত্র (ফেরপ্লিশটুঙ্সএরক্লেরুঙ)। এটা আপনার ক্ষেত্রে মানা হবে কি না, তা দূতাবাসের ওপর নির্ভর করে, তাই ভরসা করার আগে লিখিতভাবে জিজ্ঞাসা করুন।

বাংলাদেশি আবেদনকারীর ধাপ

১. আগে ভর্তির চিঠি নিন। ভিসা শুরু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা লাগে। ২. ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের কাছে বর্তমান আর্থিক প্রমাণের নিয়ম জানুন আর কোন প্রোভাইডার বা ব্যাংক তারা মানে। ৩. একটি প্রোভাইডার বাছুন এবং ফি ও তাদের চাওয়া কাগজ তুলনা করুন। ৪. টাকা পাঠানোর নিয়ম দেখুন। পড়াশোনার জন্য বিদেশে টাকা পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের নিয়মের আওতায়, তাই ব্যাংককে জিজ্ঞাসা করুন কোন কাগজ লাগবে। ৫. প্রোভাইডারের নিশ্চিতকরণ নিন আর ভিসার ফাইলে যোগ করুন। ৬. আগেভাগে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। অন্য দেশে নিয়ম কীভাবে কড়া হচ্ছে তা আমাদের ২০২৬ সালের স্টুডেন্ট ভিসার পরিবর্তন লেখায় আছে।

সংশ্লিষ্ট

সূত্র

এগুলো বাণিজ্যিক গাইড, যারা অঙ্কে একমত। চূড়ান্ত কথা জার্মান দূতাবাস বা ফেডারেল ফরেন অফিসের।

হালনাগাদ

  • ২২ অক্টোবর ২০২৬: লেখা হয়েছে। প্রকাশ ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

প্রচ্ছদ ছবি: A.Savin, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons থেকে।

আরও পড়ুন

DAAD EPOS স্কলারশিপ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে আবেদন করবেন

কাজের অভিজ্ঞতা থাকা স্নাতকদের জার্মানিতে মাস্টার্সের খরচ দেয় DAAD। যোগ্যতা, টাকার অঙ্ক, কাগজপত্র ও সময়সীমা নিয়ে DAAD নিজে কী বলছে, এখানে।

স্কলারশিপ•৪ মিনিটে পড়া

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেক্সট স্কলারশিপ: দূতাবাসের পথ কীভাবে চলে, কখন প্রস্তুতি নেবেন

জাপান সরকারের মেক্সট (MEXT) স্কলারশিপে আবেদন করতে হয় জাপানি দূতাবাসের মাধ্যমে। এতে কী কী থাকে বলে জানা গেছে, কে আবেদন করতে পারে, নির্বাচন কীভাবে হয়, আর পরের রাউন্ডের জন্য কেন এখনই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

স্কলারশিপ•২ মিনিটে পড়া

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ২০২৭: কী শেষ হয়েছে, কী আসছে

চিভনিং আর কমনওয়েলথ মাস্টার্স অক্টোবর ২০২৬-এ শেষ হয়েছে। ২০২৭-২৮ সেশনের প্রধান ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের আসল অবস্থা, কোনগুলো সামনে আছে, আর এখন থেকে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন।

স্কলারশিপ•৩ মিনিটে পড়া